
প্রতিনিধি: নিউজ ডেস্ক রিপোর্ট
এলাকা: ডেস্ক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর রাজনীতির সঙ্গে ছাত্রজীবন থেকেই সম্পৃক্ত কাজী রেজাউল হক সাঈদ দীর্ঘ সময় ধরে দলীয় আদর্শ ধারণ করে নিরবচ্ছিন্নভাবে রাজনৈতিক কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন। বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি গ্রামের এই কৃতি সন্তান বর্তমানে জার্মানির বার্লিনে প্রবাস জীবনযাপন করলেও দলীয় কার্যক্রমে তার সম্পৃক্ততা অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, ১৯৮৭-৮৮ সালে বাবুগঞ্জ থানা বিএনপির ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তার সক্রিয় রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৮-৮৯ মেয়াদে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের শেরে বাংলা ডিগ্রি কলেজ শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তার সক্রিয় ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেছেন দলীয় নেতারা।
শিক্ষাজীবনে তিনি বরিশালের শেরে বাংলা কলেজে অধ্যয়ন করেন এবং ১৯৯০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বি.এ পরীক্ষার জন্য নিবন্ধিত হন। তবে রাজনৈতিক মামলার কারণে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও পারিবারিক সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে জার্মানিতে পাড়ি জমান এবং সেখানেই কর্মজীবনে প্রবেশ করেন।
প্রবাসে অবস্থান করেও তিনি রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্ন হননি। ২০০০ সালের শুরু থেকে জার্মানিতে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। ২০০৩ সালে বার্লিন শহর কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং ২০০৯ সালে জার্মানি শাখা বিএনপির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০১৬ সাল থেকে ২০২৪ সালে কমিটি বিলুপ্ত হওয়া পর্যন্ত একই পদে দায়িত্বে ছিলেন।
দলীয় একাধিক নেতা-কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি নানা প্রতিকূলতা ও হয়রানির শিকার হলেও দল থেকে সরে যাননি। বরং প্রবাসে অবস্থান করেও দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সরকারবিরোধী আন্দোলন ও কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পাশাপাশি কর্মীদের সংগঠিত করতেও ভূমিকা রেখেছেন বলে জানা গেছে।
এছাড়া বিভিন্ন সময়ে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে দলীয় নেতা-কর্মী, সম্ভাব্য প্রার্থী এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের আর্থিক ও মানবিক সহায়তা প্রদান করেছেন।
বরিশাল অঞ্চলের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন নেতা জানান, স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য মেয়র ও সংসদ সদস্য প্রার্থীদের প্রতিও তিনি সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন।
দলীয় সূত্র বলছে, দীর্ঘদিনের এই রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, ত্যাগ ও অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ভবিষ্যতে তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে এমন প্রত্যাশা রয়েছে তার সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে।
প্রবাসে অবস্থানরত বিএনপির একাধিক নেতা-কর্মী মনে করেন, যারা দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিকূলতার মধ্যেও দলীয় আদর্শে অটল থেকেছেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। তারা আশা প্রকাশ করেন, দলের নীতিনির্ধারকরা কাজী রেজাউল হক সাঈদের রাজনৈতিক অবদান বিবেচনায় নিয়ে তার জন্য উপযুক্ত পদ ও দায়িত্ব নির্ধারণ করবেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সততা, ত্যাগ, নিষ্ঠা এবং প্রবাস থেকে দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় সম্পৃক্ততা সবকিছু মিলিয়ে কাজী রেজাউল হক সাঈদের নাম এখন দলীয় অঙ্গনে আলোচনায় রয়েছে। তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান কী হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।