
প্রতিনিধি: মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান
এলাকা: বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি :
(শার্শা) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা আজিজুর রহমান সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার সময় শার্শা উপজেলার নাভারণ হক কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি শার্শার উন্নয়ন ও জাতীয় সংস্কার নিয়ে ২৬ দফার একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা পেশ করেন।
ইশতেহারের মূল দর্শন নিয়ে মাওলানা আজিজুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, “জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্খায় একটি বৈষম্যহীন, শক্তিশালী ও মানবিক বাংলাদেশ গড়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।” তিনি শার্শার প্রায় ৫ লক্ষ মানুষের কল্যাণে সততা ও ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন।
শার্শা ও বেনাপোলের স্থানীয় উন্নয়নে বিশেষ পরিকল্পনায় তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দেন: বেনাপোল বন্দরের আধুনিকায়ন নিয়ে তিনি বলেন, বেনাপোল বন্দরকে দেশের উন্নয়নের সোপান হিসেবে গড়ে তুলতে ডিজিটালাইজেশন, সিঅ্যান্ডএফ মালিক ও শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলেন। স্বাস্থ্যসেবায় শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মানোন্নয়নসহ বেনাপোলে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট একটি আধুনিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল-বিল ও বাঁওড় দখলমুক্ত করে এবং নদী খননের মাধ্যমে শার্শাকে জলাবদ্ধতা মুক্ত করে কৃষি উপযোগী করার পরিকল্পনা ব্যক্ত করেন। মাদক ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠণে তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করতে কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং প্রতিশোধ-প্রতিহিংসা মুক্ত একটি নিরাপদ শার্শা গড়ার অঙ্গীকার করেন।
জামায়াত মনোনীত এই প্রার্থী তার ইশতেহারে জাতীয় অগ্রাধিকার পর্যায়ের বেশ কিছু সংস্কার প্রস্তাব তুলে ধরেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য: সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতি চালু এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী করা। সরকারি চাকরিতে আবেদন বিনামূল্যে করা এবং মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করা। দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনা। বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড বন্ধ এবং ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ ঘটিয়ে সুবিচার প্রতিষ্ঠা করা। কৃষি বিপ্লবের লক্ষ্যে কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ও ভর্তুকি প্রদান করা। প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।
মতবিনিময় সভায় মাওলানা আজিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, সংবাদপত্র রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হলেও সাংবাদিকরা আজ অবহেলার শিকার। তিনি সাংবাদিকদের মেধা ও সহযোগিতার মাধ্যমে একটি উন্নত শার্শা ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান। তিনি ঘোষণা করেন, “দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ ও চাঁদাবাজিকে ‘না’ বলে আমরা সততা ও ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে চাই।”
এ মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন শার্শা উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মাওলানা ফারুক হাসান, সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক আমির ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইঞ্জিনিয়ার তৈয়েবুর রহমান জাহাঙ্গীর, আসন পরিচালক রেজাউল ইসলাম, কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা হাবিবুর রহমান, বেনাপোল পোর্ট থানা জামায়াতের আমির রেজাউল ইসলাম, সেক্রেটারি মাওলানা ইউছুপ আলী, এনসিপির শার্শা উপজেলা আহ্বায়ক মুরাদ-উদ-দৌলা, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শহিদুল্লাহ কাসেমীসহ স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।