
প্রতিনিধি: মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান রুবেল
এলাকা: বেনাপোল প্রতিনিধি:
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা মোকাবিলা এবং দেশের অভ্যন্তরে তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সোমবার (৩০ মার্চ) যশোর ব্যাটালিয়নের (৪৯ বিজিবি) বেনাপোল কোম্পানী ক্যাম্পে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান নবাগত ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেঃ কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান, পিএসসি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার সুযোগ নিয়ে সীমান্তবর্তী রুট দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে জ্বালানি তেল পাচারের যে কোনো অপচেষ্টা রুখে দিতে বিজিবি তাদের টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করেছে।
যশোর রিজিয়নের আওতাধীন সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবি মূলত চারটি প্রধান লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে:
১. জ্বালানি ডিপোগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
২. ডিপো থেকে ফিলিং স্টেশন পর্যন্ত তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখা।
৩. সীমান্ত ও নৌপথে তেল পাচার কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা।
৪. সীমান্তবর্তী এলাকায় তেলের অবৈধ মজুদ সম্পূর্ণ বন্ধ করা।
বিফ্রিংয়ে জানানো হয়, যশোর রিজিয়নের অধীনে সাতটি ব্যাটালিয়ন গত কয়েকদিনে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
সীমান্ত এলাকায় ১৯২টি বিশেষ তল্লাশি অভিযান।
২৯টি সীমান্তবর্তী ফিলিং স্টেশন সরাসরি পর্যবেক্ষণ।
সন্দেহজনক রুটে ১,৯৩৬টি মোবাইল টহল এবং ১,১৩১টি চেকপোস্ট পরিচালনা। নৌপথে পাচার রোধে স্পিডবোটের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি।
জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের সাথে ৯৪৬টি মতবিনিময় সভা।
লেঃ কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান জানান, বিজিবি সদর দপ্তরের নির্দেশনায় বর্তমানে সারাদেশের ৯টি জেলার ১৯টি জ্বালানি ডিপোতে বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছে। তিনি দেশবাসীকে কোনো প্রকার গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান। সেই সাথে সীমান্ত এলাকায় জ্বালানি তেল সংক্রান্ত কোনো সন্দেহজনক কার্যক্রম নজরে আসলে তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবিকে অবহিত করার অনুরোধ করেন।
বিজিবি জানায়, সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা করা সম্ভব হবে।
সংবাদ সন্মেলণে স্থানীয় বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক এবং প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।