
প্রতিনিধি: নিউজ ডেস্ক রিপোর্ট
এলাকা: ঢাকা
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধের সুপারিশ জানিয়েছেন সাংবাদিকরা। বুধবার (২০ মে) দুপুর ১টায় রাজধানীর শ্যামলীতে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের সভাকক্ষে “রোডক্র্যাশ রোধে নিরাপদ ঈদযাত্রায় করণীয়” শীর্ষক সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
সভায় ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের রোড সেফটি প্রকল্প সমন্বয়কারী শারমিন রহমান বলেন, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে ঈদযাত্রাকালীন রোডক্র্যাশ ও প্রাণহানি উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এটি দেশের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। তিনি বলেন, এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
তিনি মহাসড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, ফিটনেসবিহীন যান চলাচল বন্ধ, চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিতকরণ এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি ঈদের আগে ও পরে মহাসড়কে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল সীমিত করা, স্পিডগানের মাধ্যমে অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ, টোল প্লাজায় দ্রুত ডিজিটাল বুথ চালু এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দাবি জানান।
সভায় শিপিং অ্যান্ড কমিউনিকেশন রিপোর্টার্স ফোরাম (এসসিআরএফ)’র সাধারণ সম্পাদক ও ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ (ইউএনবি)’র বিশেষ প্রতিনিধি মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, হাইওয়েতে রোডক্র্যাশ কমাতে পর্যাপ্ত সংখ্যক হাইওয়ে পুলিশ মোতায়েন করতে হবে। একই সঙ্গে বাস টার্মিনাল থেকে ফিটনেসবিহীন বাস যাতে বের হতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারির আহ্বান জানান তিনি।
দৈনিক ইত্তেফাকের সিনিয়র রিপোর্টার জামিউল আহ্ছান শিপু বলেন, ঈদের সময় টোল প্লাজা ও সেতুগুলোতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এই সমস্যা সমাধানে টোল বুথের সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন।
দৈনিক নয়া দিগন্তের সিনিয়র রিপোর্টার আমিনুল ইসলাম বলেন, দেশে অনেক আইন থাকলেও সেসব আইনের ফাঁকফোকড় ব্যবহার করে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। সড়ক পরিবহন আইনেও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যার কারণে কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।
জাগোনিউজ২৪ ডটকমের নিজস্ব প্রতিবেদক তৌহিদুজ্জামান তন্ময় বলেন, গণমাধ্যমে রোডক্র্যাশের খবর প্রকাশ হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার কারণ ও পরবর্তী ফলোআপ উঠে আসে না। তাই প্রতিটি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও ফলোআপ প্রতিবেদন প্রকাশ জরুরি।
সভা সঞ্চালনা করেন দৈনিক মানবজমিনের সিনিয়র রিপোর্টার (ক্রাইম) শুভ্র দেব। তিনি বলেন, সড়ক নিরাপত্তা কোনো একক সংস্থা বা ব্যক্তির দায়িত্ব নয়। এটি একটি সমন্বিত উদ্যোগের বিষয় এবং গণমাধ্যমকেও এই উদ্যোগের অংশ হতে হবে।
এসময় উপস্থিত সাংবাদিকরা মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা রোধে মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা, চালকসহ সর্বোচ্চ দুইজন আরোহী নিশ্চিত করা, বেপরোয়া লেন পরিবর্তন ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং বন্ধে নজরদারি বাড়ানোর সুপারিশ করেন। পাশাপাশি মোটরসাইকেলের জন্য বাম পাশের লেন নির্ধারণ এবং সচেতনতামূলক প্রচারণা জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, সেইফ সিস্টেমের আলোকে দ্রুত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন এবং কঠোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে সড়কের বিশৃঙ্খলা অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে। নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে সরকারকে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণেরও আহ্বান জানানো হয়।