
প্রতিনিধি: মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান
এলাকা: বেনাপোল প্রতিনিধি
বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি : যশোরের বেনাপোলে নিরাপত্তাকর্মী ইউনুস আলী হত্যা মামলায় সোহেল রানা নামে আরও এক আসামিকে আটক করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সদস্যরা। এ সময় হত্যায় ব্যবহৃত একটি গামছা উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (২৫ মে) সকালে তাকে যশোর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
আটককৃত সোহেল রানা যশোর জেলার বেনাপোল পোর্ট থানার রহমতপুর গ্রামের কুদ্দুস সিকদারের ছেলে। সে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে শার্শা উপজেলার গোগা বাগানপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। এর আগে একই মামলায় বেনাপোলের নিহত ইউনুস আলীর স্ত্রী তাসলিমা খাতুন, রহমতপুর গ্রামের তরিকুল ইসলাম ও সবুজ হোসেনকে আটক করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্য ও প্রযুক্তিগত তদন্তের ভিত্তিতে সোহেল রানার সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত হয় পিবিআই।
নিহত ইউনুস আলী (৪৭) বেনাপোলের ছোট আঁচড়া গ্রামের মৃত মোস্তাব আলীর ছেলে। তিনি বেনাপোল স্থলবন্দরের একটি ট্রান্সপোর্ট এজেন্সিতে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পিবিআই সূত্রে আরও জানা গেছে, ঘটনার রাতে মূল পরিকল্পনাকারী আনোয়ার হোসেন ইউনুস আলীকে নিয়ে সোহেল রানার ঘরে যান। সেখানে আনোয়ারের নির্দেশে সোহেল রানা ১০টি ইয়াবা ট্যাবলেট সংগ্রহ করে আনেন। এর মধ্যে একটি ইয়াবা সোহেল রানা নিজে সেবন করেন এবং বাকি ইয়াবা আনোয়ার ও ইউনুসকে দেওয়া হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল রানা জানিয়েছেন, কিছু সময় পর ইউনুস আলী অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করলে আনোয়ার তাকে জানান- ইয়াবার সঙ্গে ঘুমের ওষুধও খাওয়ানো হয়েছে। এতে ইউনুস দ্রুত অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
পিবিআই যশোরের পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান জানান, পারিবারিক জটিলতা ও পূর্বের দাম্পত্য বিরোধকে কেন্দ্র করেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, নিহত ইউনুস আলীর স্ত্রী তাসলিমা খাতুনের সঙ্গে একই এলাকার আনোয়ার হোসেনের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে বিয়ে, বিচ্ছেদ এবং পুনরায় সংসারকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধ থেকেই পরিকল্পিতভাবে ইউনুসকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ২২ এপ্রিল তরিকুল ইসলাম কৌশলে ইউনুস আলীকে বাড়ি থেকে ডেকে রহমতপুরের একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে আনোয়ারসহ কয়েকজন তাকে আটকে রেখে মারধর ও নির্যাতন চালায়। একপর্যায়ে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়। পরে সবুজ হোসেনের অ্যাপাচি মোটরসাইকেলে করে মরদেহ বেনাপোল-পুটখালী সড়কের পাশে হরিণাপোতার বিলে ফেলে রাখা হয়।
ঘটনার পর নিহতের ভাই ইউসুফ আলী বেনাপোল পোর্ট থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্তভার পায় পিবিআই যশোর। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রতন মিয়া তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্ত করে একে একে আটক করেন।
তবে মামলার মূল পরিকল্পনাকারী আনোয়ার হোসেন এখনো পলাতক রয়েছেন। তাকে আটকে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান
বেনাপোল, যশোর
০১৬৮২৫৬১৭৭৩